লভ্যাংশ ও মুনাফা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বরাবরই বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

এজন্য বিনিয়োগকারীরাও এসব কোম্পানির শেয়ারে বেশি আগ্রহী। তবে বর্তমানে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ পরিস্থিতিও হতাশাজনক। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে এসেছে। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ও মুনাফায়। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে তিন কোম্পানির লভ্যাংশ কমেছে, একটি লভ্যাংশ ঘোষণাই করেনি, একটির লভ্যাংশের পরিমাণ একই রয়েছে আর দুটির সামান্য বেড়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে লোকসানে থাকা দুই কোম্পানির লোকসান আরো বেড়েছে, দুটির মুনাফা কমেছে আর তিনটির মুনাফা কিছুটা বেড়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের অর্থবছর মার্চে শেষ হওয়ার কারণে কোম্পানি দুটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড, হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়েলস বাংলাদেশ লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি।

বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা।

ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪১ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ টাকা ৬২ পয়সা।

গ্রামীণফোন লিমিটেড সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

রবি আজিয়াটা পিএলসি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা।

আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেড সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের একই লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে লোকসান হয়েছিল ৬ পয়সা।

সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আগের হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে লোকসান হয়েছিল ৪ টাকা ৯১ পয়সা।

আরও